অস্তিত্ব সঙ্কটে ইন্টারনেট সেবাদাতারা

১৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৩৯  
মাসিক বিল প্রাপ্তিতে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। একদিকে আয়ের প্রধান উৎস করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক বিল পাচ্ছে না বললেই চলে। অপরদিকে ব্যাক্তিকেন্দ্রিক বাড়ি বাড়ি সেবা দিলেও লকডাউন ছুটিতে কর্মীরা বাড়ি থাকায় সেই বিল সংগ্রহেও বিপাকে রয়েছেন তারা। সব মিলিয়ে সেবা পারিচালনা ও কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সময় মতো বেতন দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে। অগত্যা মূলধন থেকে বেতন প্রদান ছাড়াও ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখতে ব্যান্ডউইথ পেতে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও ন্যাশনওয়্যাইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সপোর্টেশন নেটওয়ার্ক অপারেটর্সদের (এনটিটিএন) বিল পরিশোধ, অফিস ভাড়া এবং ইউটিলিটি বিল দিতে গিয়ে এখন অনেকেই ব্যবসায় টিকিয়ে রাখা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। সংগনিরোধ নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে অফিস। আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তাইবলে বন্ধ নেই জরুরী ইন্টারনেট সেবা। বরং ব্যান্ডউইথ ব্যাহার বেড়েছে। এই ইন্টারনেট সংযোগেই যতটুকু সম্ভব সচল রয়েছে ভার্চুয়াল অফিস, ব্যবসায় এমনকি টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো। সংযোগ সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। চাহিদা বাড়ায় ব্যান্ডউইথের চাপই নয় পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। বাড়ছে পাওনা পরিশোধের চাপ। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, মোট আয়ের ৭০ শতাংশই তারা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পান। বাকি ৩০ শতাংশ আসে বাসাবাড়ি থেকে। অফিসগুলো বন্ধ থাকায় এই ৭০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ বিলও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে বাসা-বাড়ি থেকেও বিল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। আবার কেউ যদি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে পরিশোধ করতে চান তাহলে খরচ দেন না। ফলে সেখানেও আয় থাকে না। ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন, আমরা এখন উভয় সঙ্কটে আছি। আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি এখনো ২০ শাতাংশের বেশি বিল কালেকশন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে আর্থিক প্রণোদনা ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানই সেবা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে কর্মীদের ছয় মাসের বেতন বাবাদ ৬১০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্রত্যাশা করছেন ইন্টারনেট সেবাদাতারা। সঙ্গে এক বছরের গ্রেসসহ ২ শতাংশ ঋণসুবিধার পাশাপাশি বিল আদায়ে এমএফএস চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী ব্যবসায়ীদের সংগঠন আইএসপিএবি।